Categories
লাইফস্টাইল

হার্টের সমস্যার লক্ষণ

হার্টের সমস্যার লক্ষণ – শরীরের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গের মধ্যে হৃদয় একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এর ক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেলে সবই শেষ। হৃদয় হলো শরীরের মূলধন।

তাই জানতে হবে হৃদয় কিভাবে কাজ করে, বুঝতে হবে হৃদরোগের লক্ষ্যণসমূহ এবং অনুসরণ করতে হবে হৃদয় ভালো রাখার পদ্ধতি।

হার্ট অ্যাটাক কি?

মায়োকার্ডিয়াল ইনফারকশন হিসেবেও পরিচিত হার্ট অ্যাটাক হলো রক্তপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা জনিত মেডিক্যাল সমস্যা।

কোনো প্রতিবন্ধকতার কারণে হার্টের রক্ত চলাচল হঠাৎ থেমে গেলে হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকে।

সাধারণত রক্তনালীতে প্লেক গঠনে হার্ট অ্যাটাক হয়। মূলত ফ্যাট ও কোলেস্টেরল জমে প্লেক গঠিত হয়।

রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হলে হার্টের মাংসপেশি ধ্বংস হতে পারে। এটা এতটাই ভয়াবহ হতে পারে যে, তৎক্ষণাৎ জরুরি চিকিৎসা না করলে মৃত্যু অবশ্যাম্ভাবী।

কিছুদিন আগে থেকে কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দেওয়া ছাড়াই হঠাৎ করে যে হার্ট অ্যাটাক হয় তা প্রাণনাশক হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকেরই হার্ট অ্যাটাক হওয়ার কিছুদিন বা সপ্তাহখানেক পূর্বে লক্ষণ বা উপসর্গ প্রকাশ পেয়ে থাকে- এসময় চিকিৎসকের কাছে গেলে ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিলে ঝুঁকি কমে আসে।

আরো পড়ুনঃ   দাতের ব্যথায় করনীয়

হার্টের সমস্যার লক্ষণ

হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকের মানে এটা নয় যে, লক্ষণ ছাড়াই সংঘটিত হবে। এই হার্ট অ্যাটাকেও সতর্ককারী লক্ষণ দেখা দিয়ে থাকে, যা লক্ষ্য করলে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

এরকম হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য লক্ষণ হলো, বুকে অনবরত ব্যথা বা চাপ অনুভব করা- যা কিছু মিনিট স্থায়ী হয় এবং পুনরায় ফিরে আসতে পারে।

আরেকটি লক্ষণ হলো- পরিশ্রমের সময় ব্যথা অনুভব করা, কিন্তু বিশ্রাম নিলে ভালবোধ করা।

হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকের অন্যান্য প্রচলিত লক্ষণ হলো- বমিভাব, বদহজম, ঘেমে যাওয়া, ক্লান্তি, চেতনা হারাচ্ছে মনে হওয়া এবং কাঁধে বা চোয়ালে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া।

এসব লক্ষণ দেখলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। এটা মনে রাখতে হবে যে, দুজন লোক হার্ট অ্যাটাকের একই ধরনের লক্ষণে নাও ভুগতে পারে।

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

চিকিৎসকেরা জানান, আধুনিক জীবনযাপনে অসংগত পরিবর্তন ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাই হলো হার্ট ও রক্তনালীতে সমস্যা বেড়ে যাওয়ার দুটি বড় কারণ।

অল্প বয়সেই হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্ভাব্য কারণসমূহ হলো-

  • ধূমপান ও তামাকের ব্যাপক ব্যবহার
  • এমন কাজকর্মে ব্যস্ত থাকা যা শরীরকে নিষ্ক্রিয় রাখে
  • দীর্ঘসময় বসে থাকা
  • অত্যধিক লবণ খাওয়া
  • দাঁতের যত্ন না নেওয়া
  • পর্যাপ্ত না ঘুমানো
  • স্থূলতা তথা শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে না রাখা
  • মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা
  • মাদক সেবন
  • উচ্চ কোলেস্টেরল
  • পরিবারের কারো হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগ হয়েছে
  • ডায়াবেটিস
  • অস্বাস্থ্যকর খাবার, বিশেষত উচ্চ চর্বি ও কোলেস্টেরল রয়েছে এমন খাবার
  • অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন।
আরো পড়ুনঃ   আপেল সিডার ভিনেগার

ভালো অভ্যাসে সুস্থ হৃদ্‌যন্ত্র

ছোট্ট কিছু অভ্যাসের পরিবর্তন জীবনটাকে বদলে দিতে পারে। সুস্থ রাখতে পারে শরীরের হৃদ্‌যন্ত্রকে।

এর জন্য কিছু অভ্যাস ছাড়তে হবে, আবার কিছু সাদরে গ্রহণ করতে হবে।

সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন ও খাদ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া। ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতে বড় প্রয়োজন প্রতিজ্ঞা।

সঠিক-স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম—এসব অভ্যাস নিজের পাশাপাশি সন্তান ও পরিজনদের মধ্যেও গড়ে তুলতে হবে।

অনুগ্রহ করে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।  আমাদের ফেসবুক পেইজ এ লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.